অহনা নোটবুকে চোখ রেখেই বলল, “গত মাসের দুধের টাকা দেওয়া আছে। এ মাসে এখনও পর্যন্ত একদিন বাদ গেছে। ফুলওয়ালা দু’মাসের টাকা পাবে। ডিসেম্বরে বারো দিন আর নভেম্বরে তেরো দিন। মোট পঁচিশ দিন। পাঁচশো টাকা পাবে।”
অহনা রান্নাঘরে কাজের ফাঁকে ফাঁকে এসে বাক্স গোছাচ্ছে। দু’টো ট্রলিতে জামা-কাপড়, দরকারি কাগজপত্র, কিছু পছন্দের বই ভরে ফেলেছে। এবার আলমারির লকার খুলে নিজের গয়নার বাক্সগুলো ঢুকিয়ে ফেলল। কয়েকটা আবার সেইভাবেই তুলে রাখল।
আলমারির চাবি থাকে অহনার কাছে। কখনও সখনও আমার দরকার হলে বা অহনা খুলে দিতে বললে চাবি চেয়ে নিই। কাজে ব্যস্ত থাকলে ওর ভ্যানিটি ব্যাগ থেকে হাতড়ে চাবি বের করে নিতে হয়। স্টিলের ঢাউস আলমারি। বিয়ের দিনকয়েক আগে পোদ্দার কোর্টের কাছে একটা নামি দোকান থেকে কেনা হয়েছিল। গাঢ় মেরুন রঙের পাল্লা। গা-টা গ্রে। এগুলোকে ওয়্যারড্রোব বলে। থাকে-থাকে জিনিস-পত্র রাখা যায় আবার হ্যাঙারে শাড়ি বা শুট টাঙিয়ে রাখা যায়। হাফ সাইজ আর ফুল সাইজ দুটো লকার আছে। তা ছাড়াও একেবারে নিচের তাকে চোরা লকার আছে। আলমারি খুললে সেটা নজরে পড়বে না। এখন পুরোটাই অহনার হয়ে গেছে। আমার জন্য আরেকটা স্লিম আলমারি কিনতে হয়েছে।
অহনা গ্যাসে কিছু ভাজা বসিয়ে এসেছিল। পোড়া গন্ধ আসতে তাড়াতাড়ি আলমারির দরজা চেপে দিয়ে ছুটল রান্নাঘরের দিকে। যাওয়ার আগে জিজ্ঞাসা করল, “তোমাকে কি এখন একবার চা করে দেব?”
আমি না সূচক মাথা নেড়েও বললাম, “দাও তবে।” না করলে হয়তো দুঃখ পেত।
অহনা চলে গেল।
আজকে সকাল থেকেই আকাশে মেঘলা। চারিদিক গুমোট হয়ে আছে। সকালে ঘুম থেকে উঠে নিজে ফ্রেশ হয়ে অহনা আমাকে ডেকে চা দিয়েছে। আমার আবার বেড-টি নেওয়ার অভ্যাস। তারপর ব্রেক ফাস্ট তৈরি করে দিয়েছে। সব প্রতিদিনের মতো স্বাভাবিক। কিন্তু কোথায় যেন ছন্দপতন! আজ অহনা চলে যাচ্ছে। আমি সকাল থেকে খবরের কাগজটা দু’বার আদ্যপান্ত উল্টে-উল্টে পড়ার চেষ্টা করেছি। মন বসাতে পারিনি। দু’টো সিগারেট শেষ করেছি। এখন চেতন ভগতের একটা বই নিয়ে বসেছি। তবে সেটাও পড়া হচ্ছে যে তা নয়।
বাড়ি থাকলে কাগজ-বই পড়াতেই সবটুকু সময় কাটে। সাংসারিক সব কাজ করে ছন্দা। সকালে ঘুমভাঙা থেকে রাতে শুতে যাওয়া। কাজের লোক আসলে তাকে দরজা খুলে দেওয়া থেকে শুরু হয় অহনার ব্যস্ততা। পাশে দঁাড়িয়ে তাকে দেখে-শুনে বাসন মাজায়। নিজে সেলফে সে সব সাজিয়ে রাখে। ঝঁাট দেওয়ার সময় আলমারি-টেবিলের তলা থেকে জমা ময়লা টেনে টেনে বের করায়। সপ্তাহে একদিন ঘরের সমস্ত আসবাব, সাজানো শো-পিস সাবধানে ঝাড়পোছ করায়। অহনা সাধারণত কাচা-ধোয়া নিজেই করে থাকে। সেমি-অটো ওয়াশিং মেশিনে। বেশি জমে গেলে বা ভারী বেড-কভার, দরজা-জানালার পর্দা কাচার জন্য আছে কাজের মেয়েটি। অহনা আগে ডিটারজেন্টে ভিজিয়ে রাখে। তবে মাঝে মাঝে এসে দেখে নেয়, মেয়েটি ঠিকভাবে জলে ধুয়ে তুলছে কিনা।
চা’য়ের পর ব্যালকনিতে সিগারেট টানছিলাম। শেষ করে ড্রয়িংরুমে ঢুকে দেখি অহনা ডাইনিং টেবিলে একটা নোটবুক খুলে বসেছে। এটা ওর সাংসারিক হিসাবের খাতা। আমাকে বলল, “এসো তো একটু, তোমাকে ক’টা জিনিস বুঝিয়ে দিই।”
আমি ওর সামনে চেয়ার টেনে নিয়ে বসলাম।
অহনা নোটবুকে চোখ রেখেই বলল, “গত মাসের দুধের টাকা দেওয়া আছে। এ মাসে এখনও পর্যন্ত একদিন বাদ গেছে। ফুলওয়ালা দু’মাসের টাকা পাবে। ডিসেম্বরে বারো দিন আর নভেম্বরে তেরো দিন। মোট পঁচিশ দিন। পঁাচশো টাকা পাবে।”
আমি কখনও এ সবের হিসাব রাখিনি। রাখতেই চাইনি। অ্যাকাউন্টে স্যালারি ক্রেডিট হলে ট্রান্সফার করে দিই অহনার অ্যাকাউন্টে। বাকি সবটা সামলায় ও। একা হাতে। অহনার আর একটা কাজও আছে। নিয়ম করে ডাক্তারের কাছে যাওয়া। দশ রকমের টেস্ট করানো। প্রেসক্রিপশান মিলিয়ে চারবেলা ওষুধ খাওয়া। প্রথম দু’বছর আমি সময়ে সময়ে নিয়ে গেছি ডাক্তারের কাছে। নানা মিথ্যা বলে অফিস থেকে ছুটি নিতে হয়েছে। সতি্যটা তো আর সবাইকে বলা যায় না! লোক হাসাহাসি করবে। আমি হাল ছেড়েই দিয়েছি, তবে অহনা এখনও আশা ছাড়েনি। এ নিয়ে মাঝেমাঝে আমার বিদ্রুপটা একটু বেশি রকমেরই অমানবিক যে হয়ে ওঠে, সেটাও বুঝি। ডাক্তার বলেছে, এমন অনেক ক্ষেত্রেই দেখা গেছে তাদের স্বাভাবিকভাবেই প্রেগন্যান্সি এসেছে। ধৈর্য হারালে চলবে না।
অামি অহনার মুখের দিয়ে চেয়ে হিসাব শুনছিলাম। মাথায় ঢুকছিল কম। ও আবার বলল, “তুমি বুঝছো। পেপারওয়ালাকে বলবে মাসেরটা মাসে এসে নিয়ে যেতে। ও জমিয়ে রাখে। পরে একসঙ্গে দিতে গায়ে লাগে...।”
ঘরের মতো বাইরেটাও সামলায় অহনাই। মাসকাবারি মুদি দোকান, রোজকার বাজার। সব। দরদাম করে, ওজন বুঝে জিনিস কিনতে এক্সপার্ট। চালের দোকানে মাঝেমাঝে মজা করে বলে, “বৌদিকে খুব ভয় পাই...এত বকাবকি করে!” অহনাই একদিন হাসতে হাসতে বলছিল।
হাসলে খুব সুন্দর লাগে অহনাকে। মুখটা অন্যরকম হয়ে যায়। ইদানিং, সেই হাসিটায় চোখের ভাষা থাকে না। অনেকবার খেয়াল করেছি। যদিও, কথা-হাসি সেভাবে খুব কমই হয়। আমার অফিসের টাইমটা বেড়ে গেছে। মানে বাড়িয়ে নিয়েছি, বেশি সময় বাড়ির বাইরে থাকা যাবে বলে। সাড়ে আটটার পর বাড়ি ফিরে ফ্রেশ হয়ে আমি বসি বই নিয়ে। অহনা সোফায় আধশোয়া হয়ে মোবাইলে তখন ওয়েব সিরিজ দেখে। তার ফঁাকে ফঁাকে দু’-একটা পাতি সাংসারিক কথা।
নোটবুক বন্ধ করে চেয়ারে টান হয়ে বসল অহনা। বলল, “রান্না হয়ে গেছে। তুমি খেয়ে নিতে পার। স্নানে যাও। গিজার অন করা আছে।”
আমি বললাম, “তুমি করে নাও না। তুমি তো আবার পুজো দেবে। তখন আমি ঢুকবো। একসঙ্গে খাবো।”
“আমার দেরী হবে কিন্তু... শ্যাম্পু করবো।”
বলতে বলতেই ফোন এল অহনার মোবাইলে। টেবিল থেকে ফোন তুলে নিতে নিতে বলল, “সেজো পিসি ফোন করেছে...হ্যালো...হুম....এই রান্না শেষ হল। সাড়ে সাতটায় ট্রেন...”
পিসিটা আমার। দুর্গাপুরে থাকে। কী যোগ কে জানে! পিসির মেয়ে নেই। দু’টোই ছেলে। পিসির সঙ্গে হঠাৎ অহনার খুব পটে গেছে। যেন গত জন্মের মা-মেয়ে। আসলে তা নয়, আত্মীয়-স্বজন, সামাজিক সম্পর্ক, লোক-লৌকিকতা সবকিছু সামলায় অহনাই।
কী-ই বা করবে! আমার মতো অসামাজিক জীবের স্ত্রী হলে তো তাকে একাই সব সামলাতে হয়। শুধু সেটা নয়। বরং, সময়টা কেটে যায়। এটা না করলে ওর হয়তো দম বন্ধ হয়ে আসত।
আমাদের বিয়ের বয়স ছ’বছর। অহনা এখন পঁয়ত্রিশে। এই সময় বাচ্চা সামলাতে ব্যস্ত থাকার কথা ওর। তাকে স্নান করানো, সাজানো, খাওয়ানো, বকা, ভোলানো...তার পিছনে চিল্লাতে-চিল্লাতে, ছুটতে ছুটতেই সময় কেটে যেত। সেটা হয়নি। তেমনটা হলে আমাকে ওর অন্য সাংসারিক কাজগুলোর একটা ভাগের দায়িত্ব নিতেই হত। আমি এখনও নিতে পারি। কিন্তু, তাতে, আমি ভাবি, অহনার মানসিক চাপ বাড়বে। আমি অফিস বেরিয়ে যাওয়ার পর লম্বা সময় একলা অহনা। একাকিত্ব কাটাতে প্রায়ই শপিংয়ে চলে যায়। কখনও কোনও বন্ধু থাকে। কিংবা একাই। উইন্ডো শপিং। কেনাকাটা মাঝে-মধ্যে। জামা-কাপড় কেনে। কেনে দরজা-জানলার পর্দা, বিছানার চাদর কিংবা রান্না ঘরের জন্য নিত্যনতুন বাজারে আসা জিসিনপত্র।
ফোন রেখে অহনা স্নানে গেল। আমি শোবার ঘরে এসে বিছানায় টান হলাম। গত রাতেও এই বিছানায় একসঙ্গে ঘুমিয়েছি। কিন্তু অনেক যোজন দূরত্ব। এই দূরত্বটা কীভাবে কবে কবে তৈরি হয়ে গেছে বুঝতে পারিনি। বুঝলাম ছ’মাস আগে। এমন একটা ছুটির দিনেই। আশ্চর্য, আমার বিরুদ্ধে ওত ক্ষোভ, অভিমান মনের ভিতর জমিয়ে রেখেছিল অহনা! সে দিনের পরই আমরা চরম সিদ্ধান্তটা নিয়ে ফেলি।
পিসির বড় ছেলে এসেছিল। অহনার বোনও এসেছিল। সবাই আমাদের বোঝানোর অনেক চেষ্টা করেছে। আরও ভেবে দেখতে বলেছে। মত পাল্টানোর পরামর্শ দিয়েছে। আমি আর অহনা কিন্তু নিজেদের সিদ্ধান্তেই থেকেছি। তারপর কোর্ট। সেপারেশন। প্রস্তাবটা আমারই ছিল। অহনা প্রথমে কোনও মত প্রকাশ করেনি। পরে অবশ্য খুব একটা অাপত্তি করেনি।
আমি কদাচিৎ অহনার সঙ্গে দূরে কোথাও যাই। বিয়ের প্রথম দু’বছর বার তিনেক বেড়াতে গেছিলাম। তারপর থেকে ও দিনহাটায় বাপের বাড়ি গেলে বা দুর্গাপুরে সেজো পিসির বাড়ি গেলে একাই যায়। দিন তিন-চারের জন্যই যাওয়া। তখন আমার খাওয়াও-দাওয়ার সব ব্যবস্থা করে যায়। কিন্তু এবার যাওটা তেমন নয়।
দুপুরের খাওয়া-দাওয়ার পর অহনা ব্যালকনিতে এসে বসল। বলল, “দু’তিন দিনের রান্না করা থাকল। আজকে রাতে রুটি এনে নিও। কাল থেকে সকালে ভাত করে নিও। রাতে ফেরার সময় দোকান থেকে রুটি নিয়ে এস...।”
অহনাকে থামিয়ে দিয়ে বললাম, “তারপর?”
“একটা ব্যবস্থা করে নিও। একটা বিয়ে করে নিও।”
আমি চুপ থাকলাম। অহনা ভাল জানে, কোনও মেয়েই আমার সঙ্গে স্ত্রী হয়ে থাকতে চাইবে না। ও আমাকে এমন দিনে নিশ্চই কঁাটা ফেঁাটানোর জন্য কথাটা বলেনি। বলে ফেলেছে। অভ্যাস মতো। আমি জানি না, অহনা কোনও অভিমান থেকে আমার সিদ্ধান্ত মেনে নিয়েছে নাকি ও নিজেও বিচ্ছেদটাই চাইছিল। কারণ, সামনে তো ওর পুরো জীবনটা পড়ে রয়েছে। একটা ভালোবাসাহীন সম্পর্ক বয়ে বেড়ানোর কোনও অর্থ হয় না।
আমার বুক নিঙড়ে একটা দীর্ঘশ্বাস বেরিয়ে আসতে চাইছিল। অতি কষ্টে চেপে রাখলাম। যেমন আজ সকাল থেকে কান্না চেপে রেখেছি। এখন খুব ইচ্ছা করছে অহনাকে আটকে রাখতে। বলতে যে আর ক’টা দিন থেকে যাও। কিন্তু তা হয় না।
বোধ হয় আমার মন বুঝতে পেরেই অহনা বলল, “অামি কি মাঝে-মাঝে তোমার কাছে আসতে পারি? বেড়াতে আসবো। ক’টা দিন কাটিয়ে যাব। তুমি ফোন করবে কিন্তু।”
আমি কী বলবো! কিন্তু আমি জানি অহনা আসবে না। মুখের কথা। আমাকে সান্ত্বনা দিচ্ছে। এখন আপাতত দিনহাটায় বাপের বাড়ি গিয়ে উঠলেও ও বেশিদিন তাদের গলগ্রহ থাকবে না। থাকতে পারবে না। ও সেই মেয়ে নয়। নিশ্চয় কোনও জবের ব্যবস্থা করবে। হয়তো কিছু কনফার্মও হয়েছে। এখন বলছে না। আমি তো মনে করতেই পারি যে চাকরি পেয়েছে বলেই অহনা বিচ্ছেদটা মেনে নিয়েছে। আমার ইচ্ছাকে স্বীকৃতি দিতে নয়।
আবার ফোন এল অহনার। অহনা উঠে গেল। ব্যলকনি থেকেই শুনতে পেলাম ওর কথা, “হ্যাঁ, বলছি..ডক্টর ত্রিবেদী?... ফর হোয়াট?.. ওকে... ওকে... ওহ্ গড... কী... আরেকবার বলুন... পজিটিভ... থ্যাঙ্ক উ, থ্যাঙ্ক উ...। অহনার কথার শেষের দিকে গলার স্বরটা বদলে গেল যেন।
অহনা ব্যালকনিতে ফিরে এল। হঠাৎ যেন এই সময় ওর মুখটা ভীষণ উজ্জ্বল লাগছে। বেশ কিছুক্ষণ আকাশের দিকে চেয়ে বসে রইল। কোনও কথা নেই কারও মুখে। ওর চোখ ছলছল করছে। বলল, “আমি বরং তোমার জন্য চারটে রুটি করে রাখি।” উঠতে যাচ্ছিল অহনা। হয়তো আমার থেকে চোখের জল আড়াল করতেই। অামি হাত ধরে টেনে ওকে সামনে বসালাম। ও অবাক হয়ে বলল, “কী হল!”
“আরেকটু বসো না।”
“এরপর তো আরও ক’টা দিন থেকে যেতেও বলবে!” অহনা হাসে। আজকে ওর হাসিটা খুব উজ্জ্বল। সেই আগের মতো।
“যদি তাই বলি?”
কয়েক মুহুর্ত চুপ থাকে অহনা। তারপর চোখে চোখ রেখে বলে, “বলেই তো দেখ।”
“থেকে যাও।” ফিসফিস করে বলি আমি। আমার চোখ ঝাপসা হচ্ছে।
ও বলল, “কী হবে তাতে। আমরা তো ঝগড়াও করবো না। সতি্য বলতে, আমার এই দমবন্ধ অবস্থা আর সহ্য হচ্ছে না।”
ওর চোখের দিকে চাইতে কুণ্ঠা হচ্ছে ভীষণ। আমার এ কথা বলা সাজে না, তবু ধরা গলায় বললাম, “সব আবার ঠিক হয়ে যাবে।”
“না, কিছু ঠিক হবে না। তুমি আমাকে চাও না। বউ নিয়ে তুমি খুশি নয়। তুমি দেখতে চাও, তোমার সামনে একটা মা ঘুরছে-ফিরছে।”
আমি চুপ করে থাকি। সত্যিই তো...আমি কি ওর মাতৃত্ব নিয়ে চিন্তিত, নাকি নিজের পিতৃত্ব নিয়ে! নিজের দুর্বলতা আড়াল করতে চাই অহনার আড়ালে থেকে। অহনা আমার মাথা বুকে নিয়ে বলে, “আজ কি বৃষ্টি আসবে?”
অামি অহনার চিবুক তুলে ধরে বলি, “তোমার ট্রেন ক’টায়?”
অহনা আনত হয়ে চুপ থাকে। অহনা কাঁদছে না। আমি জানি ওকে পৃথিবীর কোনও শক্তিই আর এই বাড়িতে আটকে রাখতে পারবে পারবে না।
অনেকদিন পর ব্যলকনির দরজার পর্দা উড়িয়ে ঠান্ডা হাওয়া ঢুকছে ঘরে। কিন্তু গুমোটটা কিছুতেই কাটছে না।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন