কলকাতা বইমেলায় সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় ও সমরেশ মজুমদারের ক্লাসিক বইয়ের চাহিদা বেড়েছে। পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদ ও নন-ফিকশন বইয়েও নজর কাড়ছে পাঠকের আগ্রহ।
বইতন্ত্র: কলকাতা বইমেলা মানেই নতুন প্রকাশনার ঝলক, লেখক-আড্ডা আর বইপ্রেমীদের ভিড়—তবে এবারের মেলায় আরও স্পষ্ট এক আলাদা প্রবণতা। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের বড় অংশ ফিরে তাকাচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিকের দিকে। বিশেষ করে সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস ও গল্পসংকলনের স্টলগুলিতে চোখে পড়ছে উল্লেখযোগ্য ভিড়। শুধু পুরনো পাঠক নন, তরুণ প্রজন্মও আগ্রহ নিয়ে খুঁজছেন এই লেখকদের বই।
প্রকাশকদের মতে, অনেকেই প্রথমবার পড়ার জন্য ক্লাসিক বই কিনছেন, আবার অনেকে পুরনো পড়া বই নতুন সংস্করণে সংগ্রহে রাখতে চাইছেন। সমরেশ বসুর সমাজবাস্তবতা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রোমান্টিক ও ঐতিহাসিক আখ্যান, এবং সমরেশ মজুমদারের জনপ্রিয় ধারাবাহিক উপন্যাস—সব মিলিয়ে বাংলা ক্লাসিক সাহিত্য যেন নতুন করে পাঠকের কাছে ফিরে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত বইগুলির দিকেও নজর রয়েছে পাঠকদের।
বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদও এবারের মেলায় বিক্রির তালিকায় ওপরের দিকেই। বিশ্বসাহিত্যের খ্যাতনামা উপন্যাস, থ্রিলার, দার্শনিক লেখা এবং আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার—সবই দ্রুত পাঠকদের ঝুলিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বই সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেগুলির বাংলা অনুবাদ সংস্করণের চাহিদা বেশি।
নন-ফিকশন বইয়ের স্টলগুলিতেও ভিড় কম নয়। ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং আত্মউন্নয়নমূলক বই হাতে নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ স্পষ্ট। অনেকেই জানাচ্ছেন, এখন বই কেনা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, নিজের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যেও।
দক্ষিণ কলকাতার কলেজছাত্রী ঋতুপর্ণা দে জানালেন, এ বছর তিনি ইচ্ছে করেই বাংলা ক্লাসিক খুঁজতে মেলায় এসেছেন। ছোটবেলায় বাড়িতে সমরেশ মজুমদারের বই দেখলেও ঠিক করে পড়া হয়নি, এখন নিজের মতো করে পড়তে চান। তাই তিনি ‘সাতকাহন’ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস কিনেছেন। তাঁর কথায়, নতুন লেখাও পড়েন, তবে পুরনো লেখকদের ভাষা ও গল্প বলার ভঙ্গিতে আলাদা টান আছে।
হাওড়ার বাসিন্দা আইটি কর্মী সৌরদীপ মুখার্জি ঝুঁকেছেন অনুবাদ সাহিত্যের দিকে। তাঁর কথায়, বিদেশি বইয়ের নাম শোনা বা রিভিউ দেখা হলেও ইংরেজিতে বড় বই পড়তে সময় লাগে, তাই বাংলা অনুবাদই ভরসা। এবারে তিনি দু’টি জাপানি উপন্যাসের অনুবাদ এবং একটি লাতিন আমেরিকান লেখকের বই কিনেছেন। তাঁর মতে, অনুবাদের মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে, তাই পড়তেও স্বাচ্ছন্দ্য।
অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী জানালেন, তিনি মূলত নন-ফিকশন বইয়ের খোঁজেই বইমেলায় আসেন। এ বছর ইতিহাস ও অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু বই কিনেছেন। দেশের রাজনীতি ও বিশ্ব পরিস্থিতি বোঝার জন্য ভালো বই পড়া দরকার বলেও মত তাঁর। উপন্যাস পড়েন বটে, তবে এখন তথ্যভিত্তিক বইয়ের প্রতিই বেশি আকর্ষণ।
এই তিনজন পাঠকের কথাতেই ধরা পড়ছে কলকাতা বইমেলার বহুমুখী পাঠরুচির ছবি। প্রজন্মভেদে পছন্দের পার্থক্য থাকলেও এক জায়গায় মিল স্পষ্ট—পাঠাভ্যাস বদলালেও বই এখনও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। আর সেই টানেই কলকাতা বইমেলা হয়ে উঠছে এক বহুরঙা, বহুস্বরের পাঠ-উৎসব।
![]() |
| বইয়ের সন্ধানে। বইমেলা প্রাঙ্গণে মানচিত্র হাতে এক বইপ্রেমী। ছবি: International Kolkata Book Fair ফেসবুক পেজ থেকে। |
বইতন্ত্র: কলকাতা বইমেলা মানেই নতুন প্রকাশনার ঝলক, লেখক-আড্ডা আর বইপ্রেমীদের ভিড়—তবে এবারের মেলায় আরও স্পষ্ট এক আলাদা প্রবণতা। নতুন বইয়ের পাশাপাশি পাঠকদের বড় অংশ ফিরে তাকাচ্ছেন বাংলা সাহিত্যের ক্লাসিকের দিকে। বিশেষ করে সমরেশ বসু, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায় এবং সমরেশ মজুমদারের উপন্যাস ও গল্পসংকলনের স্টলগুলিতে চোখে পড়ছে উল্লেখযোগ্য ভিড়। শুধু পুরনো পাঠক নন, তরুণ প্রজন্মও আগ্রহ নিয়ে খুঁজছেন এই লেখকদের বই।
প্রকাশকদের মতে, অনেকেই প্রথমবার পড়ার জন্য ক্লাসিক বই কিনছেন, আবার অনেকে পুরনো পড়া বই নতুন সংস্করণে সংগ্রহে রাখতে চাইছেন। সমরেশ বসুর সমাজবাস্তবতা, সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের রোমান্টিক ও ঐতিহাসিক আখ্যান, এবং সমরেশ মজুমদারের জনপ্রিয় ধারাবাহিক উপন্যাস—সব মিলিয়ে বাংলা ক্লাসিক সাহিত্য যেন নতুন করে পাঠকের কাছে ফিরে আসছে। একই সঙ্গে সাম্প্রতিক সময়ে পুরস্কারপ্রাপ্ত বইগুলির দিকেও নজর রয়েছে পাঠকদের।
বাংলা সাহিত্যের পাশাপাশি বিদেশি সাহিত্যের অনুবাদও এবারের মেলায় বিক্রির তালিকায় ওপরের দিকেই। বিশ্বসাহিত্যের খ্যাতনামা উপন্যাস, থ্রিলার, দার্শনিক লেখা এবং আন্তর্জাতিক বেস্টসেলার—সবই দ্রুত পাঠকদের ঝুলিতে যাচ্ছে। বিশেষ করে যেসব বই সিনেমা বা ওয়েব সিরিজ হিসেবে জনপ্রিয়তা পেয়েছে, সেগুলির বাংলা অনুবাদ সংস্করণের চাহিদা বেশি।
নন-ফিকশন বইয়ের স্টলগুলিতেও ভিড় কম নয়। ইতিহাস, রাজনীতি, অর্থনীতি, মনোবিজ্ঞান এবং আত্মউন্নয়নমূলক বই হাতে নিয়ে পাঠকদের আগ্রহ স্পষ্ট। অনেকেই জানাচ্ছেন, এখন বই কেনা শুধু বিনোদনের জন্য নয়, নিজের জ্ঞানভাণ্ডার সমৃদ্ধ করার উদ্দেশ্যেও।
দক্ষিণ কলকাতার কলেজছাত্রী ঋতুপর্ণা দে জানালেন, এ বছর তিনি ইচ্ছে করেই বাংলা ক্লাসিক খুঁজতে মেলায় এসেছেন। ছোটবেলায় বাড়িতে সমরেশ মজুমদারের বই দেখলেও ঠিক করে পড়া হয়নি, এখন নিজের মতো করে পড়তে চান। তাই তিনি ‘সাতকাহন’ এবং সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের একটি উপন্যাস কিনেছেন। তাঁর কথায়, নতুন লেখাও পড়েন, তবে পুরনো লেখকদের ভাষা ও গল্প বলার ভঙ্গিতে আলাদা টান আছে।
হাওড়ার বাসিন্দা আইটি কর্মী সৌরদীপ মুখার্জি ঝুঁকেছেন অনুবাদ সাহিত্যের দিকে। তাঁর কথায়, বিদেশি বইয়ের নাম শোনা বা রিভিউ দেখা হলেও ইংরেজিতে বড় বই পড়তে সময় লাগে, তাই বাংলা অনুবাদই ভরসা। এবারে তিনি দু’টি জাপানি উপন্যাসের অনুবাদ এবং একটি লাতিন আমেরিকান লেখকের বই কিনেছেন। তাঁর মতে, অনুবাদের মান আগের তুলনায় অনেক উন্নত হয়েছে, তাই পড়তেও স্বাচ্ছন্দ্য।
অন্যদিকে, অবসরপ্রাপ্ত স্কুলশিক্ষক অনিরুদ্ধ চক্রবর্তী জানালেন, তিনি মূলত নন-ফিকশন বইয়ের খোঁজেই বইমেলায় আসেন। এ বছর ইতিহাস ও অর্থনীতি নিয়ে বেশ কিছু বই কিনেছেন। দেশের রাজনীতি ও বিশ্ব পরিস্থিতি বোঝার জন্য ভালো বই পড়া দরকার বলেও মত তাঁর। উপন্যাস পড়েন বটে, তবে এখন তথ্যভিত্তিক বইয়ের প্রতিই বেশি আকর্ষণ।
এই তিনজন পাঠকের কথাতেই ধরা পড়ছে কলকাতা বইমেলার বহুমুখী পাঠরুচির ছবি। প্রজন্মভেদে পছন্দের পার্থক্য থাকলেও এক জায়গায় মিল স্পষ্ট—পাঠাভ্যাস বদলালেও বই এখনও জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সঙ্গী। আর সেই টানেই কলকাতা বইমেলা হয়ে উঠছে এক বহুরঙা, বহুস্বরের পাঠ-উৎসব।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন