ভিনসেন্ট বলোরের মালিকানাধীন ফরাসি প্রকাশনা সংস্থা গ্রাসে থেকে শতাধিক লেখকের একযোগে পদত্যাগ, মতাদর্শিক প্রভাব ও প্রকাশনা জগতের ভবিষ্যৎ নিয়ে উঠছে বড় প্রশ্ন।
বইতন্ত্র ডেস্ক : ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা গ্রাসে (Grasset) থেকে একযোগে পদত্যাগ করলেন শতাধিক লেখক, যা ইউরোপের সাহিত্য জগতে বিরাট আলোড়ন ফেলেছে। সংস্থার মালিক, কট্টর ডানপন্থী ভাবধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিল্পপতি ভিনসেন্ট বলোরের (Vincent Bolloré) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। লেখকদের অভিযোগ, বলোরের বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য ক্রমশ রক্ষণশীল ও অতি-ডানপন্থী মতাদর্শকে এগিয়ে দিচ্ছে, যা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের স্বাধীনতার পক্ষে বিপজ্জনক।
এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লেখকদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত পাঙ্ক-ফেমিনিস্ট ঔপন্যাসিক ভার্জিনি দেপঁত এবং দার্শনিক বার্নার-অঁরি লেভির মতো বিশিষ্ট নাম। তাঁরা একটি খোলা চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা কোনও মতাদর্শগত যুদ্ধে পনবন্দি হতে রাজি নই, যেখানে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের ওপর কর্তৃত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের লেখা ও ভাবনাকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে দেওয়া যাবে না।” এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ভ্যানেসা স্প্রিঙ্গোরা ও লরাঁ বিনের মতো লেখকরাও। প্রতিবাদী লেখকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের আগের প্রকাশিত কাজের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপও নিতে পারেন।
এই গণপদত্যাগের সূত্রপাত হয় গ্রাসের দীর্ঘদিনের সম্পাদক অলিভিয়ে নোরার বিদায়ের পর। প্রায় ২৬ বছর ধরে সংস্থাটি পরিচালনা করা নোরাকে অনেক লেখকই মতাদর্শগত ভারসাম্যের শেষ প্রাচীর হিসেবে দেখতেন। তাঁর বিদায়কে অনেকেই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। যদিও সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, রক্ষণশীল লেখক বুয়ালেম সানসালের নতুন বই প্রকাশের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে।
এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড দুফ্রেন একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে নিজের চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁর বক্তব্য, “বলোরের কাছে সাহিত্য নয়, ব্যবসা ও মতাদর্শই মুখ্য।” ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের স্বাধীন বই বিক্রেতারাও বলোরের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৩ সালে বলোরের সংস্থা ভিভেন্ডি ফ্রান্সের বৃহত্তম প্রকাশনা ও বিতরণ গোষ্ঠী হাশেত লিভ্র অধিগ্রহণ করে, যার ফলে দেশের প্রকাশনা জগতে তাঁর প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাশেত লিভ্র বিশ্বের অন্যতম বড় প্রকাশনা সংস্থা, যার অধীনে অসংখ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রিয় কমিকস থেকে শুরু করে সাহিত্য, পাঠ্যপুস্তক—সবকিছুই প্রকাশিত হয়। এই বিপুল নিয়ন্ত্রণকে অনেকেই গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছেন, কারণ একটি সংস্থার হাতে সংস্কৃতির এত বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে।
যদিও ভিনসেন্ট বলোর আগেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তাঁর মিডিয়া ও প্রকাশনা ব্যবসা সম্পূর্ণ আর্থিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং এতে সব মতেরই জায়গা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই গণপদত্যাগ প্রমাণ করছে, ফরাসি সাহিত্য জগতে মতাদর্শ বনাম স্বাধীনতার সংঘাত এখন চরমে পৌঁছেছে।
বইতন্ত্র ডেস্ক : ফ্রান্সের ঐতিহ্যবাহী প্রকাশনা সংস্থা গ্রাসে (Grasset) থেকে একযোগে পদত্যাগ করলেন শতাধিক লেখক, যা ইউরোপের সাহিত্য জগতে বিরাট আলোড়ন ফেলেছে। সংস্থার মালিক, কট্টর ডানপন্থী ভাবধারার সঙ্গে ঘনিষ্ঠ বলে পরিচিত শিল্পপতি ভিনসেন্ট বলোরের (Vincent Bolloré) বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতেই এই নজিরবিহীন পদক্ষেপ বলে জানা গিয়েছে। লেখকদের অভিযোগ, বলোরের বিশাল মিডিয়া সাম্রাজ্য ক্রমশ রক্ষণশীল ও অতি-ডানপন্থী মতাদর্শকে এগিয়ে দিচ্ছে, যা সংস্কৃতি ও সাহিত্যের স্বাধীনতার পক্ষে বিপজ্জনক।
এই প্রতিবাদে অংশ নেওয়া লেখকদের মধ্যে রয়েছেন প্রখ্যাত পাঙ্ক-ফেমিনিস্ট ঔপন্যাসিক ভার্জিনি দেপঁত এবং দার্শনিক বার্নার-অঁরি লেভির মতো বিশিষ্ট নাম। তাঁরা একটি খোলা চিঠিতে স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন, “আমরা কোনও মতাদর্শগত যুদ্ধে পনবন্দি হতে রাজি নই, যেখানে সংস্কৃতি ও গণমাধ্যমের ওপর কর্তৃত্ববাদ চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে। আমাদের লেখা ও ভাবনাকে কারও ব্যক্তিগত সম্পত্তি হতে দেওয়া যাবে না।” এই চিঠিতে স্বাক্ষর করেছেন ভ্যানেসা স্প্রিঙ্গোরা ও লরাঁ বিনের মতো লেখকরাও। প্রতিবাদী লেখকেরা জানিয়েছেন, তাঁরা নিজেদের আগের প্রকাশিত কাজের অধিকার পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি পদক্ষেপও নিতে পারেন।
এই গণপদত্যাগের সূত্রপাত হয় গ্রাসের দীর্ঘদিনের সম্পাদক অলিভিয়ে নোরার বিদায়ের পর। প্রায় ২৬ বছর ধরে সংস্থাটি পরিচালনা করা নোরাকে অনেক লেখকই মতাদর্শগত ভারসাম্যের শেষ প্রাচীর হিসেবে দেখতেন। তাঁর বিদায়কে অনেকেই চাপিয়ে দেওয়া সিদ্ধান্ত বলে মনে করছেন। যদিও সংস্থার তরফে আনুষ্ঠানিক কোনও ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি, তবে ধারণা করা হচ্ছে, রক্ষণশীল লেখক বুয়ালেম সানসালের নতুন বই প্রকাশের সিদ্ধান্তের সঙ্গে এই ঘটনার যোগ থাকতে পারে।
এই বিতর্ক আরও তীব্র হয় যখন সাংবাদিক ও লেখক ডেভিড দুফ্রেন একটি টেলিভিশন অনুষ্ঠানে প্রকাশ্যে নিজের চুক্তিপত্র ছিঁড়ে ফেলেন। তাঁর বক্তব্য, “বলোরের কাছে সাহিত্য নয়, ব্যবসা ও মতাদর্শই মুখ্য।” ইতিমধ্যেই ফ্রান্সের স্বাধীন বই বিক্রেতারাও বলোরের ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
২০২৩ সালে বলোরের সংস্থা ভিভেন্ডি ফ্রান্সের বৃহত্তম প্রকাশনা ও বিতরণ গোষ্ঠী হাশেত লিভ্র অধিগ্রহণ করে, যার ফলে দেশের প্রকাশনা জগতে তাঁর প্রভাব বহুগুণে বৃদ্ধি পেয়েছে। হাশেত লিভ্র বিশ্বের অন্যতম বড় প্রকাশনা সংস্থা, যার অধীনে অসংখ্য প্রকাশনা প্রতিষ্ঠান, জনপ্রিয় কমিকস থেকে শুরু করে সাহিত্য, পাঠ্যপুস্তক—সবকিছুই প্রকাশিত হয়। এই বিপুল নিয়ন্ত্রণকে অনেকেই গণতন্ত্রের জন্য বিপজ্জনক বলে মনে করছেন, কারণ একটি সংস্থার হাতে সংস্কৃতির এত বড় অংশের নিয়ন্ত্রণ থাকা মতপ্রকাশের স্বাধীনতাকে সংকুচিত করতে পারে।
যদিও ভিনসেন্ট বলোর আগেই অভিযোগ অস্বীকার করে জানিয়েছিলেন, তাঁর মিডিয়া ও প্রকাশনা ব্যবসা সম্পূর্ণ আর্থিক উদ্দেশ্যে পরিচালিত এবং এতে সব মতেরই জায়গা রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক এই গণপদত্যাগ প্রমাণ করছে, ফরাসি সাহিত্য জগতে মতাদর্শ বনাম স্বাধীনতার সংঘাত এখন চরমে পৌঁছেছে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন