তাইওয়ানের লেখক Yáng Shuāng-zi-র উপন্যাস Taiwan Travelogue জিতল আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার ২০২৬। দুই নারীর সম্পর্ক, উপনিবেশবাদ, খাদ্যসংস্কৃতি ও স্মৃতির জটিল বয়ান নিয়ে তৈরি বইটি তার আগেই সমালোচকদের নজরে পড়েছিল। লিখছেন অরণ্য

উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৩৮ সালের তাইওয়ান, যখন দ্বীপটি জাপানের উপনিবেশ। নাগাসাকির জাপানি ঔপন্যাসিক আওয়ামা চিজুকো সরকারি সফরে তাইওয়ানে আসেন। সাম্রাজ্যবাদী প্রচারের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই; বরং তিনি তাইওয়ানকে জানতে চান তার খাবার, রান্না ও মানুষের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে। এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয় সংযত ও দক্ষ রাঁধুনি চিজুরু — এক তাইওয়ানি নারী, যিনি একই সঙ্গে তাঁর দোভাষীও। ধীরে ধীরে দুই নারীর মধ্যে গড়ে ওঠে এক গভীর আবেগময় সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্কের মধ্যে সবসময় কাজ করে যায় উপনিবেশ ও ক্ষমতার অদৃশ্য দূরত্ব — একজন সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি, অন্যজন উপনিবেশের মানুষ।
(বইতন্ত্র-এর পাশে থাকুন। এই লিঙ্ক থেকে বইটি সংগ্রহ করলে আমরা অ্যামাজন থেকে একটি কমিশন পাবো ধন্যবাদ)
আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের ৫০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্য সমানভাবে ভাগ করে নেবেন লেখক Yáng Shuāng-zi এবং অনুবাদক Lin King। এই পুরস্কার আবারও মনে করিয়ে দিল, বিশ্বসাহিত্যের ভবিষ্যৎ ক্রমশ বহুভাষিক, বহুসাংস্কৃতিক এবং প্রান্তিক অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
![]() |
Taiwan Travelogue author Yáng Shuāng-zǐ and translator Lin King at the International Booker Prize 2026 winner ceremony © David Parry for Booker Prize Foundation. |

তাইওয়ানের লেখক Yáng Shuāng-zi-র উপন্যাস Taiwan Travelogue আন্তর্জাতিক সাহিত্যজগতে নতুন ইতিহাস তৈরি করল। ২০২৬ সালের আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কার জিতেছে এই উপন্যাস, যা ইংরেজিতে অনুবাদ করেছেন Lin King। ম্যান্ডারিন চীনা ভাষা থেকে অনূদিত কোনও বই এই প্রথম আন্তর্জাতিক বুকার জিতল। শুধু একটি প্রেমের গল্প হিসেবেই নয়, উপনিবেশবাদ, ভাষা, খাদ্যসংস্কৃতি এবং ক্ষমতার সম্পর্ককে সাহিত্যের পরীক্ষামূলক ফর্মে তুলে ধরার জন্য বইটি ইতিমধ্যেই বিশ্বসাহিত্যে বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে।
উপন্যাসটির পটভূমি ১৯৩৮ সালের তাইওয়ান, যখন দ্বীপটি জাপানের উপনিবেশ। নাগাসাকির জাপানি ঔপন্যাসিক আওয়ামা চিজুকো সরকারি সফরে তাইওয়ানে আসেন। সাম্রাজ্যবাদী প্রচারের প্রতি তাঁর বিশেষ আগ্রহ নেই; বরং তিনি তাইওয়ানকে জানতে চান তার খাবার, রান্না ও মানুষের জীবনযাপনের মধ্য দিয়ে। এই সফরে তাঁর সঙ্গী হয় সংযত ও দক্ষ রাঁধুনি চিজুরু — এক তাইওয়ানি নারী, যিনি একই সঙ্গে তাঁর দোভাষীও। ধীরে ধীরে দুই নারীর মধ্যে গড়ে ওঠে এক গভীর আবেগময় সম্পর্ক। কিন্তু সেই সম্পর্কের মধ্যে সবসময় কাজ করে যায় উপনিবেশ ও ক্ষমতার অদৃশ্য দূরত্ব — একজন সাম্রাজ্যের প্রতিনিধি, অন্যজন উপনিবেশের মানুষ।
![]() |
| বইটি অনলাইনে সংগ্রহ করতে ছবিটিতে ক্লিক করুন। |
(বইতন্ত্র-এর পাশে থাকুন। এই লিঙ্ক থেকে বইটি সংগ্রহ করলে আমরা অ্যামাজন থেকে একটি কমিশন পাবো ধন্যবাদ)
এই উপন্যাসের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য তার নির্মাণভঙ্গি। বইটিতে রয়েছে কাল্পনিক ফুটনোট, গবেষণামূলক ভূমিকাসহ অনুবাদকের নোট। ফলে পাঠক একদিকে যেমন একটি প্রেমের গল্প পড়েন, অন্যদিকে তেমনি প্রশ্নের মুখোমুখি হন ইতিহাস, ভাষা ও স্মৃতির রাজনৈতিক ব্যবহার নিয়ে। সাহিত্য সমালোচকদের মতে, এই বহুস্বরিক নির্মাণই বইটিকে সমকালীন বিশ্বসাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ টেক্সটে পরিণত করেছে।
আন্তর্জাতিক বুকার কমিটির চেয়ার Natasha Brown পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেন, “Taiwan Travelogue একই সঙ্গে এক অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস এবং তীক্ষ্ণ পোস্টকলোনিয়াল রচনা। বইটির বহুস্তর নিয়ে বিচারকদের মধ্যে সমৃদ্ধ আলোচনা হয়েছে। এটি এক আকর্ষণীয় এবং সূক্ষ্মভাবে পরিশীলিত উপন্যাস।” এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হচ্ছে।
বিশ্বসাহিত্যে এই ধরনের বইয়ের বুকার জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত এক দশকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কারগুলিতে ইউরোপকেন্দ্রিক বয়ানের বাইরে এসে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপনিবেশ-উত্তর অভিজ্ঞতা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। Taiwan Travelogue সেই ধারারই এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখানে প্রেম কোনও ব্যক্তিগত আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝার মাধ্যম। দুই নারীর সম্পর্কের মধ্যে উপনিবেশবাদী ইতিহাসের যে টানাপোড়েন কাজ করে, তা বর্তমান বিশ্বের পরিচয়-রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ও অনুবাদ-তত্ত্ববিদ Susan Bassnett বহুবার বলেছেন, অনুবাদিত সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের ধারণাকে প্রসারিত করে এবং “translation is not just linguistic transfer but cultural negotiation।” Taiwan Travelogue-এর সাফল্য সেই কথাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করল। একইভাবে সাহিত্যতাত্ত্বিক Gayatri Chakravorty Spivak দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশ-উত্তর সাহিত্যে ভাষা ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই উপন্যাসে অনুবাদ, ভাষা ও উপনিবেশিক শ্রেণিবিভাগ যেভাবে পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পিভাকের তত্ত্বকেও নতুন প্রাসঙ্গিকতা দেয়।
খাদ্যসংস্কৃতিকে রাজনৈতিক স্মৃতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করার জন্যও বইটি বিশেষ প্রশংসা পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এখানে রান্না বা খাবারের বর্ণনা শুধুই নান্দনিক উপাদান নয়; বরং তা উপনিবেশিত সমাজের পরিচয় ও প্রতিরোধের ভাষা। ফলে উপন্যাসটি একই সঙ্গে রোম্যান্স, ইতিহাস, ট্রাভেলগ এবং সাংস্কৃতিক দলিল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বুকার কমিটির চেয়ার Natasha Brown পুরস্কার ঘোষণার সময় বলেন, “Taiwan Travelogue একই সঙ্গে এক অসাধারণ প্রেমের উপন্যাস এবং তীক্ষ্ণ পোস্টকলোনিয়াল রচনা। বইটির বহুস্তর নিয়ে বিচারকদের মধ্যে সমৃদ্ধ আলোচনা হয়েছে। এটি এক আকর্ষণীয় এবং সূক্ষ্মভাবে পরিশীলিত উপন্যাস।” এই মন্তব্য ইতিমধ্যেই আন্তর্জাতিক সাহিত্য মহলে ব্যাপকভাবে উদ্ধৃত হচ্ছে।
বিশ্বসাহিত্যে এই ধরনের বইয়ের বুকার জয় বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। গত এক দশকে আন্তর্জাতিক সাহিত্য পুরস্কারগুলিতে ইউরোপকেন্দ্রিক বয়ানের বাইরে এসে এশিয়া, আফ্রিকা ও লাতিন আমেরিকার উপনিবেশ-উত্তর অভিজ্ঞতা ক্রমশ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। Taiwan Travelogue সেই ধারারই এক গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন। এখানে প্রেম কোনও ব্যক্তিগত আবেগের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং তা হয়ে ওঠে রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ক্ষমতার সম্পর্ক বোঝার মাধ্যম। দুই নারীর সম্পর্কের মধ্যে উপনিবেশবাদী ইতিহাসের যে টানাপোড়েন কাজ করে, তা বর্তমান বিশ্বের পরিচয়-রাজনীতি ও সাংস্কৃতিক স্মৃতির সঙ্গেও গভীরভাবে সম্পর্কিত।
বিশিষ্ট সাহিত্য সমালোচক ও অনুবাদ-তত্ত্ববিদ Susan Bassnett বহুবার বলেছেন, অনুবাদিত সাহিত্য বিশ্বসাহিত্যের ধারণাকে প্রসারিত করে এবং “translation is not just linguistic transfer but cultural negotiation।” Taiwan Travelogue-এর সাফল্য সেই কথাকেই নতুনভাবে প্রতিষ্ঠা করল। একইভাবে সাহিত্যতাত্ত্বিক Gayatri Chakravorty Spivak দীর্ঘদিন ধরে উপনিবেশ-উত্তর সাহিত্যে ভাষা ও ক্ষমতার সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেছেন। এই উপন্যাসে অনুবাদ, ভাষা ও উপনিবেশিক শ্রেণিবিভাগ যেভাবে পরস্পরের সঙ্গে মিশে গেছে, তা স্পিভাকের তত্ত্বকেও নতুন প্রাসঙ্গিকতা দেয়।
খাদ্যসংস্কৃতিকে রাজনৈতিক স্মৃতির অংশ হিসেবে ব্যবহার করার জন্যও বইটি বিশেষ প্রশংসা পাচ্ছে। সমালোচকদের মতে, এখানে রান্না বা খাবারের বর্ণনা শুধুই নান্দনিক উপাদান নয়; বরং তা উপনিবেশিত সমাজের পরিচয় ও প্রতিরোধের ভাষা। ফলে উপন্যাসটি একই সঙ্গে রোম্যান্স, ইতিহাস, ট্রাভেলগ এবং সাংস্কৃতিক দলিল হয়ে উঠেছে।
আন্তর্জাতিক বুকার পুরস্কারের ৫০ হাজার পাউন্ড অর্থমূল্য সমানভাবে ভাগ করে নেবেন লেখক Yáng Shuāng-zi এবং অনুবাদক Lin King। এই পুরস্কার আবারও মনে করিয়ে দিল, বিশ্বসাহিত্যের ভবিষ্যৎ ক্রমশ বহুভাষিক, বহুসাংস্কৃতিক এবং প্রান্তিক অভিজ্ঞতার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।


একটি মন্তব্য পোস্ট করুন