সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতা, লেখকের স্বাধীনতা ও সময়ের সঙ্গে সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন নিয়ে বক্তব্য রাখলেন তসলিমা নাসরিন, রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়-সহ প্রাজ্ঞ সাহিত্যকাররা।
![]() |
| Jasmine: The Girl Who Keeps Asking Why বইটির প্রকাশে রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজকুমার মুখোপাধ্যায়, তসলিমা নাসরিন, বিপ্লব ঘোষ ও শ্বেতা চক্রবর্তী। |
বইতন্ত্র : সাহিত্যে শ্লীলতা ও অশ্লীলতার সীমারেখা কোথায়, আর সময়ের সঙ্গে সেই ধারণা কীভাবে বদলে যায়, তা নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা হয় সল্টলেকের সানি পার্লস স্কুলের বিডি অডিটোরিয়ামে। ১১ অক্টোবর, রবিবার বিরাসত আর্ট পাবলিকেশন ও সানি পার্লস স্কুলের উদ্যোগে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে মূল বক্তা ছিলেন বিশিষ্ট লেখিকা তসলিমা নাসরিন।
আলোচনায় অংশ নেন লেখক রঞ্জন বন্দ্যোপাধ্যায়, রাজকুমার মুখোপাধ্যায় ও শ্বেতা চক্রবর্তী। সাহিত্যে শ্লীলতা-অশ্লীলতার ধারণা, লেখকের স্বাধীনতা এবং সাহিত্য প্রকাশের নানা দিক উঠে আসে তাঁদের আলোচনায়।
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, সাহিত্যে যাকে অশ্লীল বলে চিহ্নিত করা হয়, তার কোনও চিরস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সীমারেখা তিনি মানেন না। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে সাহিত্য সম্পর্কে মানুষের ধারণাও পাল্টে যায়। যে বই একসময় বিতর্কের জেরে নিষিদ্ধ হয়েছিল বা অশ্লীলতার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বইই সাহিত্যক্ষেত্রে স্বীকৃতি পেয়েছে, এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমেও জায়গা করে নিয়েছে।
তসলিমা নাসরিনের বক্তব্য, সাহিত্যে যাকে অশ্লীল বলে চিহ্নিত করা হয়, তার কোনও চিরস্থায়ী বা নির্দিষ্ট সীমারেখা তিনি মানেন না। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি বদলালে সাহিত্য সম্পর্কে মানুষের ধারণাও পাল্টে যায়। যে বই একসময় বিতর্কের জেরে নিষিদ্ধ হয়েছিল বা অশ্লীলতার অভিযোগে সমালোচিত হয়েছিল, পরবর্তী সময়ে সেই বইই সাহিত্যক্ষেত্রে স্বীকৃতি পেয়েছে, এমনকী বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমেও জায়গা করে নিয়েছে।
তিনি বলেন, তাই কোনও একটি নির্দিষ্ট সময়ের সামাজিক মূল্যবোধের নিরিখে সাহিত্যকে বিচার করলে তার সামগ্রিক গুরুত্ব বা প্রাসঙ্গিকতা সব সময় বোঝা সম্ভব নয়। যে বিষয় একসময় অশ্লীল বলে বিবেচিত হত, সমাজের দৃষ্টিভঙ্গি উদার হলে পরবর্তী সময়ে তা আর একইভাবে বিবেচিত নাও হতে পারে।
সাহিত্যে শ্লীলতা ও অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি লেখকের স্বাধীনতা এবং সৃষ্টিশীলতার পরিসর নিয়েও আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও প্রকাশভঙ্গিকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা উচিত, তা নিয়ে আলোচকদের মতামত অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ দিনের অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের Jasmine: The Girl Who Keeps Asking Why বইটি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিপ্লব ঘোষের একটি বাংলা বইও প্রকাশিত হয়।
সাহিত্যে শ্লীলতা ও অশ্লীলতার সংজ্ঞা নির্ধারণের পাশাপাশি লেখকের স্বাধীনতা এবং সৃষ্টিশীলতার পরিসর নিয়েও আলোচনা হয় অনুষ্ঠানে। সাহিত্যের বিষয়বস্তু ও প্রকাশভঙ্গিকে কোন দৃষ্টিভঙ্গিতে বিচার করা উচিত, তা নিয়ে আলোচকদের মতামত অনুষ্ঠানে বিশেষ গুরুত্ব পায়। এ দিনের অনুষ্ঠানে তসলিমা নাসরিনের Jasmine: The Girl Who Keeps Asking Why বইটি প্রকাশ করা হয়। পাশাপাশি বিপ্লব ঘোষের একটি বাংলা বইও প্রকাশিত হয়।
লেখক ও কবিদের সম্মান জানানোরও আয়োজন ছিল অনুষ্ঠানে। তসলিমা নাসরিনের হাতে তুলে দেওয়া হয় ‘সুধীন্দ্রনাথ দত্ত স্মৃতি পুরস্কার’ এবং ‘সানি পার্লস স্কুল সম্মান’। সাহিত্য, সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গি ও লেখকের স্বাধীনতাকে ঘিরে এই আলোচনা শ্লীলতা-অশ্লীলতার চিরাচরিত ধারণাকে নতুন করে পর্যালোচনা করার অবকাশ তৈরি করে।

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন