বই লিখেই বিপদে প্রাক্তন মেটা কর্তা! ‘চুপ করাতে’ চাপ সংস্থার, দেউলিয়ার পথে লেখিকা

মেটা-র বিরুদ্ধে বিস্ফোরক বই প্রকাশ করে বিতর্কে প্রাক্তন কর্তা সারাহ উইন-উইলিয়ামস। গ্যাগ অর্ডার, জরিমানা ও আইনি চাপে দেউলিয়ার মুখে লেখিকা। তীব্র বিতর্ক প্রকাশনা জগতে।

বই লিখেই বিপদে প্রাক্তন মেটা কর্তা! ‘চুপ করাতে’ চাপ সংস্থার, দেউলিয়ার পথে লেখিকা
লেখিকা Sarah Wynn-Williams. 

বইতন্ত্র ডেস্ক : 
একটি বই প্রকাশের পরেই জীবন বদলে যেতে পারে—তবে সেই বদল সবসময় ইতিবাচক হয় না। প্রযুক্তি জগতের অন্যতম বড় সংস্থা মেটার বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ তুলে লেখা বই প্রকাশের পর চরম আর্থিক ও আইনি চাপে পড়েছেন সংস্থার প্রাক্তন কর্তা Sarah Wynn-Williams। তাঁর লেখা বই ‘Careless People’ আন্তর্জাতিক মহলে আলোড়ন তুলেছে। আর সেইসঙ্গেই তৈরি হয়েছে একটি বড় বিতর্ক, লেখক কি সত্য বলার শাস্তি পাচ্ছেন?

একসময় মেটার পূর্বসূরি ফেসবুকে গ্লোবাল পাবলিক পলিসির ডিরেক্টর পদে ছিলেন উইন-উইলিয়ামস। তাঁর এই বইয়ে সোশ্যাল মিডিয়া সংস্থার কাজের ধরন, চিনের সঙ্গে সম্ভাব্য সম্পর্ক, এমনকি কিশোর-কিশোরীদের উপর প্রভাব নিয়েও গুরুতর অভিযোগ তোলা হয়েছে। বইয়ে যৌন হেনস্থার অভিযোগের কথাও উঠে এসেছে, যদিও সেই অভিযোগ সম্পূর্ণভাবে অস্বীকার করেছে সংস্থা।

এই বই প্রকাশের পরই শুরু হয়েছে আইনি লড়াই। অভিযোগ, সংস্থাটি তাকে ‘চুপ করাতে’ এবং ‘শাস্তি দিতে’ নানা পদক্ষেপ নিয়েছে। ব্রিটিশ পার্লামেন্টেও এই বিষয়টি নিয়ে সরব হয়েছেন প্রাক্তন মন্ত্রী Louise Haigh। তাঁর দাবি, লেখিকাকে এমন এক গ্যাগ অর্ডারের মুখে পড়তে হয়েছে, যেখানে সংস্থার বিরুদ্ধে কোনও নেতিবাচক মন্তব্য করলে প্রতি বার ৫০ হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা দিতে হতে পারে।

এই পরিস্থিতিতে আর্থিক বিপদের মুখে পড়েছেন উইন-উইলিয়ামস। সংসদে বিষয়টি উত্থাপন করে বলা হয়েছে, সত্য প্রকাশ করতে গিয়ে তিনি প্রায় দেউলিয়া হতে চলেছেন। একইসঙ্গে প্রশ্ন উঠছে—হুইসলব্লোয়ারদের কি যথেষ্ট সুরক্ষা দেওয়া হচ্ছে?

তবে মেটার পক্ষ থেকে সব অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে। সংস্থার দাবি, বইটি পুরনো ও ভ্রান্ত তথ্যের মিশ্রণ, এবং অনেক অভিযোগই ভিত্তিহীন। তাদের বক্তব্য, লেখিকাকে ‘খারাপ পারফরম্যান্স’ এবং ‘টক্সিক আচরণ’-এর কারণে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল। এমনকি সংস্থার মতে, এই বই প্রকাশই হওয়া উচিত ছিল না।

আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লেখিকাকে তাঁর বই প্রচার থেকে বিরত রাখার নির্দেশও আনা হয়েছে। যদিও প্রকাশক Pan Macmillan জানিয়েছে, সব বিতর্কের মধ্যেও বইটি ইতিমধ্যেই দেড় লক্ষেরও বেশি কপি বিক্রি হয়েছে এবং বেস্টসেলার তালিকাতেও জায়গা করে নিয়েছে।

এই বিতর্কের মাঝেই মার্কিন সেনেটের শুনানিতেও উপস্থিত হয়ে উইন-উইলিয়ামস দাবি করেন, মেটা চিনের সঙ্গে সেন্সরশিপ সংক্রান্ত কাজে যুক্ত ছিল। যদিও সংস্থাটি সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে।

বর্তমানে তিনি সম্পূর্ণ নীরব। আইনি বিধিনিষেধের কারণে প্রকাশ্যে খুব বেশি কিছু বলতে পারছেন না। এক বিবৃতিতে তিনি জানিয়েছেন, তিনি আরও অনেক কিছু বলতে চান, কিন্তু পারেন না। একইসঙ্গে তিনি অন্যান্য প্রযুক্তি কর্মীদের আহ্বান জানিয়েছেন, সত্য জানলে তা সামনে আনতে, যাতে ভবিষ্যতে আরও ক্ষতি এড়ানো যায়।

Post a Comment

নবীনতর পূর্বতন